Logo
News Headline :
বরিশালে কেক কাটার মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু বরিশালে মামলার আসামী আটকের পর ছিনতাই আজ ছাত্রলীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বরগুনায় ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী, অভিযুক্ত বাবা-ছেলে গ্রেফতার সারাদেশে করোনা টিকা পেল প্রায় ৩৮ লাখ স্কুল শিক্ষার্থী বরিশালে ৪০০ টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের বই বিতরণ! বরিশালে ৬ কেজি গাঁজাসহ নারী মাদককারবারী আটক বরিশালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের মনপুরায় ৫ দিন ধরে লাগাতার কোর্ট বর্জন আইনজীবিদের, বিপাকে বিচারপ্রার্থীরা বরিশালে নারী ছিনতাই চক্রের শিকার আরেক নারী হাতেম আলী কলেজের গেট যেন ময়লার ভাগাড় লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড তৃতীয় দিনেও মরদেহ উদ্ধার অভিযান মুলাদীতে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর বরিশাল/ ভূমিহীনদের উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিক্ষোভ বিপিএল: সব ঠিকঠাক থাকলে বরিশালের হয়ে খেলবেন সাকিব
অপরূপ সৌন্দর্য্যে ভরপুর লাল শাপলার বিল সাতলা

অপরূপ সৌন্দর্য্যে ভরপুর লাল শাপলার বিল সাতলা

মাহাদী হাসান :: বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার একটি ঐতিহ্যের নাম লাল শাপলা লতা-পাতা গুল্মে ভরা বিলের পানিতে শত সহস্র লাল শাপলা হার মানিয়েছে সূর্যের আভাকেও। প্রতি বছরের মতো এবারও উপজেলার সাতলা ও হারতা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে প্রাকৃতিকভাবে জন্মেছে লাল শাপলা । যার অবারিত রঙিন রূপে মুগ্ধ হবে যে কেউ নয়নাভিরাম মনোমুগ্ধকর লাল শাপলার প্রতি আকর্ষণ সবার চেয়ে বেশী। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে এ ফুল ফোটা শুরু হয়ে প্রায় ছয় মাস পর্যন্ত বিল-ঝিল জলাশয় ও নিচু জমিতে জন্ম নেয় লাল শাপলা। জেলা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়ন।

এই ইউনিয়নের উত্তর সাতলা, পার্শ্ববর্তী আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ও খাজুরিয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে শাপলা বিলের অবস্থান। এ বিলের মোট আয়তন সম্পর্কে স্থানীয় কারোরই সঠিক ধারণা নেই। তবে উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী প্রায় ১ হাজার ৬শ হেক্টর জমি জুড়ে এই বিলের অবস্থান। ঐতিহ্যবাহি এ শাপলা বিলের চারপাশে গাঢ় সবুজের পটভূমিতে যেন বাংলার এক মুখরিত ‘লাল স্বর্গ’। দূর থেকে সবুজের মধ্যে লাল রঙ দেখে সৌন্দর্য্য প্রেমিরা আনন্দিত হয় গ্রামবাংলার নৈসর্গের উচ্ছলতায়। দূরত্ব কমার সাথে সাথে স্পষ্ট হয়ে ওঠে ফুলের অস্তিত্ব।

আগাছা আর লতা-পাতায় ভরা বিলের পানিতে ফুটন্ত লাল শাপলা সত্যিই সৌন্দর্য্যরে এক লীলাভূমি। নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যরে ফুটন্ত লাল শাপলা দেখে যেন চোখ জুড়িয়ে যায়। সৌন্দর্য্যরে এই শাপলা আবার অনেকের আয়ের উৎস। বিল থেকে শাপলা তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে অসংখ্য পরিবার। বিল সংলগ্ন উত্তর সাতলা গ্রামের শাপলা বিক্রেতা ছবুর হাওলাদারসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, বছরের ছয় মাস তারা অনেকেই এই বিলের শাপলার ওপর নির্ভরশীল। বিল থেকে শাপলা তুলে ও মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে তাদের মতো অর্ধশত পরিবার। তবে গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন সমস্যায় এ উপজেলার বুক থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করেছে ঐতিহ্যের লাল শাপলা। আরেক মতো চোখ জুড়ানো সেই শাপলা এখন আর দেখা যায় না।

অনেকাংশেই তা হ্রাস পেয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাড়তি জনসংখ্যার চাপে জমি ভরাট করে বাড়ি, পুকুর, মাছের ঘের বানানোর ফলে কমছে বিল। তাতে শাপলা জন্মানোর জায়গাও কমে আসছে। তাছাড়া বিলের জমিতে মাছ চাষ, উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষাবাদের জন্য সেচ, বেশি মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, খাল-বিল ও জলাশয় ভরাটের কারণেও হারিয়ে যাচ্ছে লাল শাপলা। অনেকে পুকুরেও লাল শাপলা চাষ করতেন। তবে পুকুরে মাছ চাষের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সেখান থেকেও হারিয়ে যাচ্ছে লাল শাপলা। সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের উত্তর সাতলা বিলটি ‘শাপলা বিল’ নামেই বেশি পরিচিত। এছাড়া একই ইউনিয়নের মুঁড়িবাড়ি ও হারতা ইউনিয়নের কালবিলা গ্রামেও লাল শাপলার বিল রয়েছে।

সেখানে গেলেও মনে হবে শাপলার স্বর্গ রাজ্যে বন্দি। সাধারণত আগস্ট মাসে বিলগুলোতে অল্প অল্প করে শাপলা ফুল ফোটা শুরু হয়। তবে ব্যাপকভাবে ফোটে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে। আর বিলের জলে ফুটন্ত লাল শাপলার হাতছানিতে জেলা শহর ছাড়িয়ে এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রকৃতি প্রেমিরা আসতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে এখানকার শাপলা বিল দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মনোমুগ্ধকর বিলের শাপলা দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছে ভ্রমণপিপাসুরা। প্রত্যন্ত অঞ্চল উত্তর সাতলা গ্রামের বিলটির লাল শাপলাকে ঘিরে নির্মিত হয়েছে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন চিত্র। ফলে দিন দিন দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠছে সাতলার শাপলা বিল। অথচ বিলে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের জন্য আশপাশেও নেই কোন শৌচাগার বা পাবলিক টয়লেট। এতে অনেকটা বিরক্তিতে পড়েন দূর-দুরান্ত থেকে এখানে ঘুরতে আসা মানুষগুলো। তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছে শাপলা বিলের সৌন্দর্য্যবর্ধন ও আশপাশে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন তালুকদার বলেন, সাধারণত ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে শীতের মৌসুমে যখন পানি কমে যায় তখন বিলের সব শাপলা মরে যায় এবং কৃষকরা সেখানে ধান চাষ করে। তবে এতে শাপলা জন্মানোর ক্ষেত্রে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে কিনা সে বিষয়টি অনুসন্ধানে কাজ চলছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *