Logo
News Headline :
বরিশালে কেক কাটার মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু বরিশালে মামলার আসামী আটকের পর ছিনতাই আজ ছাত্রলীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বরগুনায় ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী, অভিযুক্ত বাবা-ছেলে গ্রেফতার সারাদেশে করোনা টিকা পেল প্রায় ৩৮ লাখ স্কুল শিক্ষার্থী বরিশালে ৪০০ টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের বই বিতরণ! বরিশালে ৬ কেজি গাঁজাসহ নারী মাদককারবারী আটক বরিশালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের মনপুরায় ৫ দিন ধরে লাগাতার কোর্ট বর্জন আইনজীবিদের, বিপাকে বিচারপ্রার্থীরা বরিশালে নারী ছিনতাই চক্রের শিকার আরেক নারী হাতেম আলী কলেজের গেট যেন ময়লার ভাগাড় লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড তৃতীয় দিনেও মরদেহ উদ্ধার অভিযান মুলাদীতে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর বরিশাল/ ভূমিহীনদের উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিক্ষোভ বিপিএল: সব ঠিকঠাক থাকলে বরিশালের হয়ে খেলবেন সাকিব
সনদ বিহীন টেকনিশিয়ান রফিক, ভোগান্তির শেষ নেই

সনদ বিহীন টেকনিশিয়ান রফিক, ভোগান্তির শেষ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: বরিশাল নগরীর কির্তনখোলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেকনিশিয়ান পরিচয়দানকারী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। দাখিল পাশ করে নিজেকে দক্ষ ও মস্তবড় টেকনিশিয়ান পরিচয় দিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সকল পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এতে করে প্রায়শই বেকায়দায় পরছে সাধারন রোগীরা। সম্প্রতি এই রফিকের খপ্পরে পরে নাজেহাল হতে হলো বরিশাল মেট্রোপলিটন ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট হাসান অহমেদকে। যদিও অদৃশ্য ক্ষমতা বলে পার পেয়ে যান টেকনিশিয়ান পরিচয়দানকারী রফিক।

জানা গেছে- রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ আলী হাসানের কাছে কণ্যা সন্তানকে নিয়ে এলার্জির সমস্যা দেখাতে যান সার্জেন্ট হাসান। পরে ডাঃ মোঃ আলী হাসান তার কণ্যা সন্তানকে দেখে রক্ত পরীক্ষা করাতে বলেন। পরবর্তীতে সার্জেন্ট হাসান তার মেয়েকে নিয়ে নগরীর বিবিরপুকুরের উত্তর পাশের কির্তনখোলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে পরীক্ষা করানো জন্য ১৬শ টাকা জমা দেন। কিছুক্ষণ পরে তারা রক্ত পরীক্ষার জন্য টেকনিশিয়ান পরিচয়দানকারী রফিকের কাছে গেলে তিনি রক্ত নিতে গিয়ে কাপাকাপি শুরু করেন এবং কিছুতেই রক্ত নিতে না পেরে বার বার ওই শিশুর হাতের বিভিন্ন স্থানে সিরিঞ্জের আঘাতে ক্ষত করতে থাকে। তা দেখে সার্জেন্ট হাসান পরিচয় দিয়ে রফিকের টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করার সনদ আছে কিনা জানতে চান মাত্র। পুনরায় সনদের বিষয়ে জানতে চাইলেই ঘটে বিপত্তি। চারদিক থেকে ঘিড়ে ধরা হয় সার্জেন্ট হাসানকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থালে ছুটে যান বরিশাল মেট্রোপলিটন ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর আবদুর রহিম ও কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে রফিকের টেকনিশিয়ান সনদ দেখতে চাইলে দাখিল পাশের একটি সনদ ও অন্যান্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ করার অভিজ্ঞতা সনদ দেখান রফিক। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক কোন সনদ দেখাতে পারেননি তিনি।

এ ব্যাপারে বরিশাল মেট্রোপলিটন ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর আবদুর রহিম বলেন, খবর শুনে আমি ঘটনাস্থালে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি টেকনিশিয়ান পরিচয়দানকারী রফিকের কোন প্রাতিষ্ঠানিক সনদ নেই। তবুও তিনি অহরহ পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি কোতয়ালী থানার ওসি সমাধান করেছেন বলে জানালে আমরা চলে যাই।

বরিশাল মেট্রোপলিটন ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট হাসান অভিযোগ করে বলেন, টেকনিশিয়ান রফিকের কাজ দেখে আমার সন্দেহ হলে প্রাতিষ্ঠানিক সনদ রয়েছে কিনা জানতে চাই। আর তাতেই রফিকসহ কির্তনখোলা ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়। পরে আমি বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই।

এ ব্যাপারে টেকনিশিয়ান পরিচয়দানকারী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার কোন টেকনিশিয়ান সনদ নেই। আমি অনেকদিন যাবত টেকনিশিয়ানের কাজ করছি। আমার অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ কাজ করতে প্রাতিষ্ঠানিক কোন সনদের প্রয়োজন হয়না বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, নগরীর সকল ডায়াগনস্টিক সেন্টারেই আমার মতো টেকনিশিয়ান দিয়ে কাজ চলছে। কই আপনারাতো সেসকল ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে যান না?

এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালী মডেল থানার ওসিকে একাধিক বার কল দেয়া হলেও তিনি কলটি রিসিভ করেন নি।

একজন প্রশাসনিক লোকের সাথে এমনটা ঘটার পরেও যদি রফিকের মতো অদক্ষ ও সনদ বিহীন টেকনিশিয়ানরা সহজেই পার পেয়ে যায়, তাহলে সাধারন রোগীদের অবস্থা কেমন হয় এমনটাই প্রশ্ন সচেতন মহলের।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *