Logo
News Headline :
বরিশালে কেক কাটার মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু বরিশালে মামলার আসামী আটকের পর ছিনতাই আজ ছাত্রলীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বরগুনায় ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী, অভিযুক্ত বাবা-ছেলে গ্রেফতার সারাদেশে করোনা টিকা পেল প্রায় ৩৮ লাখ স্কুল শিক্ষার্থী বরিশালে ৪০০ টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের বই বিতরণ! বরিশালে ৬ কেজি গাঁজাসহ নারী মাদককারবারী আটক বরিশালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের মনপুরায় ৫ দিন ধরে লাগাতার কোর্ট বর্জন আইনজীবিদের, বিপাকে বিচারপ্রার্থীরা বরিশালে নারী ছিনতাই চক্রের শিকার আরেক নারী হাতেম আলী কলেজের গেট যেন ময়লার ভাগাড় লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড তৃতীয় দিনেও মরদেহ উদ্ধার অভিযান মুলাদীতে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর বরিশাল/ ভূমিহীনদের উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিক্ষোভ বিপিএল: সব ঠিকঠাক থাকলে বরিশালের হয়ে খেলবেন সাকিব
একজন_সফল_তরুন উদ্যোক্তা কে.এস.এম সপ্নীল চৌধুরী সোহাগের সফলতার গল্প

একজন_সফল_তরুন উদ্যোক্তা কে.এস.এম সপ্নীল চৌধুরী সোহাগের সফলতার গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক ,খান মেহেদী: নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার উলা গ্রাম। দুরন্ত বালক দাপিয়ে বেড়িয়েছে খেলার মাঠ থেকে সর্বত্র। এ পাড়া থেকে ও পাড়া কোথায় নেই তার পদচারনা। গ্রামের মানুষের মধ্যমনি ছিলেন ছোট বেলা থেকেই। বাবা ছিলেন আর্মি অফিসার। লেখাপড়ার শুরুটা হয় ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট স্কুল থেকে।

এরপর নড়াইল তারপর ঝিনাইদহ প্রি ক্যাডেট। বাবার চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন জায়গায় লেখাপড়া করলেও অষ্টম শ্রেনীতে বৃত্তি তুলে নিতে ভুল হয়নি। নড়াইল দিঘলিয়া আদর্শ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি। গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এইচএসসি।

কম্পিউটার এন্ড সফটওয়্যার ইন্জিনিয়ারিং এ বিএসসি ও এমএসসি সমাপ্ত। ইটকাঠ পাথরের যান্ত্রিক ঢাকায় আসা পড়াশুনার সুবাদে। কারও মুখাপেক্ষী না হয়ে কিভাবে আত্মকর্মসংস্থান করা যায় সেটা খুজতেই শুরু হয় টিউশনি করা।

নিজের পড়াশুনার খরচ নিজে যোগানোর পরেও হাতে থাকা কিছু কিছু টাকা জমানো শুরু করেন। কিন্তু হটাৎ করেই টিউশন চলে যায়। এভাবে যে জীবন চলবে না বুঝতে বাকি থাকে না। তখন থেকেই মুলত বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখা শুরু হয়। ২০১০ সাল। তখনও ঢাকা শহর অচেনা। অচেনাকে চেনার যাত্রা শুরু হয় টিউশনি করে জমানো মাত্র ২২,০০০ টাকা হাতে নিয়ে।

নিজেকে কিভাবে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরী করা যায় সে ভাবনা ভাবতে ভাবতে বন্ধুর পরামর্শ পছন্দ হয়। মজার বিষয় হচ্ছে যে বন্ধু ব্যবসার আইডিয়া দিয়েছিল সে বিস্তারিত কিছুই জানত না। শুধু রাস্তাটা বলে দিয়েছিল।

পরের দিন ভার্সিটির ক্লাশ শেষ করে দুপুরের রোদ মাথায় নিয়ে ঘর্মাক্ত শরীরে আইডিয়া কে বাস্তবায়নের পথে নেমে পড়েন। কাছে থাকা ২২০০০ টাকাই সম্বল।

পন্য কিনে কোথায় বিক্রি করবেন নেই সে সম্পর্কেও কোন ধারনা। গুলিস্থান এলাকায় খুঁজেও পেলেন তার ব্যবসার জন্য পাইকারী পন্য ক্রয়ের জায়গা। কিন্তু কোয়ালিটি নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারলেন না। সর্বপ্রথম ১২০০০ টাকার টিশার্ট কিনলেন। যে বাসায় থাকতেন সেখান থেকেই শুরু হল যাত্রা।

বন্ধু আর সল্প সময়ের পরিচিত জনদের কাছে তার পণ্য বিক্রি শুরু করলেন। কিছু দিনের মধ্যে প্রচার বাড়তে লাগল তার ক্রেতাদের কাছ থেকেই। প্রথম চালানের মাল বিক্রি করতে না করতেই ধাক্কা। একজনের সাথে সল্পসময়ের পরিচয়। সেই লোক কিছু প্রোডাক্ট সোর্সিং করে দেওয়ার কথা বললেন ভাল কোয়ালিটির।

কিন্তু যা দিলেন তা ছিল রাশিয়ান বায়ারের প্রোডাক্ট। বাংলাদেশের মানুষের পোশাকের সাইজ থেকে অনেক বড়। তার ওপর ছেড়া কাটা রিজেক্ট প্রোডাক্ট প্যাকেট করে দিয়েছিল। বড় ধরনের ক্ষতি হল। মনটা ভেঙে গেল।

হতাশ হলেন দারুন ভাবে। ভাবলেন কোন ভাবেই এ ব্যবসা করবেন না। আশপাশে সব অসৎ মানুষ। এদের মাঝে থেকে ব্যবসা করা সম্ভব নয়। থেমে গিয়েও থামলেন না। বড় হওয়ার জিদটা আরও বেশী কাজ করল।

হটাৎ করেই ভাবলেন অসৎ মানুষের ভীড়ে সততা নিয়ে ব্যবসা করাটা অবশ্যই ভাল কিছু হতে পারে। তার প্রতি ক্রেতাদের আস্থা তৈরী হতে বেশী সময় লাগবে না।

ধাক্কাটাকে পজিটিভ ভাবে নিয়ে শুরু হল সাবধানে পা ফেলা। পণ্যের বিক্রি বাড়ানোর জন্য নতুন পথের সন্ধান করা। সেই সাথে কোন জায়গা থেকে আরও ভাল কোয়ালিটির প্রোডাক্ট সংগ্রহ করতে পারবে সেদিকে নজর দেওয়া। অন্যদিকে নিজের পড়াশুনা আর টিউশন তখনও চলছে।

প্রতিদিন সকালে উঠে ভার্সিটি, তারপর সেখান থেকে পাইকারী মার্কেটে গিয়ে আনকমন ষ্টাইলিশ পন্য খুজে বের করে বাসায় এনে সুতা কাটিং করে সেগুলোতে মেটাল ও বাটন সংযুক্ত করে আয়রন করা, সাথে হ্যান্ড ট্যাগ ও প্যাক চেঞ্জ করে দর্শনীয় উপস্থাপন। তত দিনে মিরপুরের ফুটপাতের পোশাক বিক্রেতারা তার খোঁজ পেয়ে গেছে।

দিন দিন পন্য বিক্রয়ের জায়গা বাড়ার সাথে পন্য পাইকারী কিনে আনার পর সেটিকে দর্শনীয় রুপ দিতে চুক্তি ভিত্তিক তিন জন ছেলে ও একটি মেয়ের কাজের ব্যবস্থাও হল।

সেই সাথে তার অক্লান্ত পরিশ্রম যুক্ত হয়ে ভাল কিছুর দেখা মিলতে শুরু করল। কিন্তু গল্প তো এখানেই শেষ নয়? দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করার পরও স্বপ্নটাকে ছুতে পারছিলেন না।

ব্যবসাকে কিভাবে আরও সমৃদ্ধ করা যায় সে চেষ্টা চলছিল দিনরাত। পরিচয় হল বায়িং হাউজের সঙ্গে। প্রতিশ্রুতি পেলেন গার্মেন্টস থেকে তার পছন্দের নির্দিষ্ট পোশাক তৈরী করে দেওয়ার। এবার স্বপ্নের পথে যাত্রার আরও একটি ধাপ পার হতে পারবেন বলেই অনেকটা নিশ্চিত। গার্মেন্টস এ তার দেওয়া অর্ডারের মাল সুইং হল। কিন্তু তিনি হাতে পেলেন না।

তার টাকায় তৈরী পন্য মার্কেটে বিক্রি করে দিয়ে মুনাফা লুটে নিতে লাগল সেই বায়িং হাউজ। আর তাকে দেখাতে লাগল নানান অজুহাত। অন্যদিকে তার পাইকাররা তার কাছে মাল চাইতে লাগল।

কিন্তু হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সমস্যায় পড়তে হল প্রতিনিয়তই। দেড় মাস পর উদ্ধার পেলেন কৌশল আর বুদ্ধিমত্তার গুনে। ডেলিভারী পেলেন মাল কিন্তু নিন্মমানের।

ততদিনে তার ব্যবসার যত পাইকার ছিল তা হাতছাড়া হয়ে গেছে। ব্যবসা বন্ধের পর্যায়ে প্রায়। হাল ছাড়লেন না। আবারও ভাবলেন যেখানে যত অসৎ মানুষ সেখানেই সততার স্বীকৃতি পাওয়া সহজ হবে। পথে নেমে বাধার সম্মুখীন না হলে বাধা পার হওয়ার উপায় খুঁজে পাওয়া যায় না। এবার আর মার্চেন্ডাইজার নয় সরাসরি গার্মেন্টস মালিকদের সাথে যোগাযোগ শুরু করলেন।

সেই সাথে পুরাতন পাইকারদের ফিরিয়ে আনার সাথে সাথে নতুন পাইকার খুঁজতে লাগলেন। সফলতাও এলো সে পথে। দিন দিন পরিচিতি বাড়তে শুরু করল। সততা, বুদ্ধিমত্তা, আর অক্লান্ত পরিশ্রমের গুণে ঘুরে দাড়ানো শুরু হল। ব্যবসা বড় হতে শুরু করল।

কিন্তু নিজের কাছে বড় ধরনের পুজিঁ না থাকার কারনে সমস্যায় পড়তে হল। কিন্তু তার সততা আর পরিশ্রম তাকে সেই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় দেখিয়ে দিল। বেশ কয়েকজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী তাকে সাহায্য করতে শুরু করলেন।

গার্মেন্টস থেকে বাকীতে মাল নিয়ে বিক্রি করে বাকী টাকা পরিশোধের সুযোগ করে দিলেন। মুলত এখান থেকেই সে সর্বোচ্চ লাভের সুযোগ পেলেন কোন রকমের পুজিঁ না খাটিয়ে। সেই সাথে আবিস্কার করতে পারলেন সততা থাকলে ব্যবসায় পুঁজির সংস্থান করা কঠিন কিছু না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *